জট খুলতে আসছে নতুন প্রস্তাব

0
26

বাংলাদেশ থেকে কর্মী প্রেরণে সিন্ডিকেট নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নতুন এক প্রস্তাব নিয়ে আজ ঢাকায় আসছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এম সারাভারান। তার নতুন প্রস্তাবে কী আছে, তা নিয়ে ঢাকায় ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক উচ্চপর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে জট খোলার আশা করা হচ্ছে।

ইতঃপূর্বে অনিয়মের অভিযোগে মাহাথিরের সরকার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছিল। ওই সময়ে সীমিতসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী প্রেরণ করা হচ্ছিল। অনেক বছর শ্রমবাজারটি বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ থাকার পর গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সমঝোতা স্মারক মোতাবেক, কর্মীদের বিমান ভাড়াসহ যাবতীয় ব্যয় মালয়েশিয়ার নিয়োগকারীরা বহন করবে।

এই শর্তে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হলেও আবারও সিন্ডিকেট বিতর্কে নিয়োগ আটকে যায়। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী সারাভারান এক চিঠি দিয়ে তাদের পছন্দমতো ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করবে বলে জানায়। বাংলাদেশ সরকার এই শর্তে একমত হয়নি। বাংলাদেশের তরফে নিবন্ধিত এক হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশের যুক্তি হলো, মালয়েশিয়া কর্মী নিয়োগে দেশটি অপরাপর সোর্স কান্ট্রিগুলোর জন্য সিন্ডিকেট বেঁধে দেয়নি। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য ভিন্ন নিয়ম যৌক্তিক নয়। বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো সিন্ডিকেট এবং সিন্ডিকেটবিরোধী দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ সরকার সব রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের পক্ষে অবস্থান নিলেও মালয়েশিয়ার সরকার এ ব্যাপারে সাড়া দেয়নি। ফলে কর্মী প্রেরণে স্থবিরতা দেখা দেয়।

জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর সফরের বিষয় নিশ্চিত করলেও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে অস্বীকার করেন। তবে ঢাকার এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, কর্মী প্রেরণ বিষয়ে দুদেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত।

যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে মন্ত্রীর উপস্থিতির কারণ কী জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের অবস্থান মালয়েশিয়ার কাছে স্পষ্ট। আমরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী পাঠাতে চাই না। আমরা চাই উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কর্মী পাঠাতে, যেভাবে অন্য দেশগুলো মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠায়। এ বিষয়টি অনুধাবন করে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী সম্ভবত ছাড় দিয়ে নতুন কোনো প্রস্তাব নিয়ে আসছেন। এখন দেখা যাক তিনি কী প্রস্তাব নিয়ে আসেন।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বিষয়টি এমনই জটিল আকার ধারণ করেছে যে কর্মকর্তা পর্যায়ে এর সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই রাজনৈতিক পর্যায়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ কারণে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের পাশাপাশি দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক হবে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকের ফলাফল ইতিবাচক হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সারাভারানের সাক্ষাৎ হতে পারে।’

রিক্রুটিং এজেন্টরা বলছেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দাতো আমীন এবং বাংলাদেশে রিক্রুটিং এজেন্টদের সংগঠন বায়রার সাবেক সাধারন সম্পাদক রুহুল আমিন স্বপন সিন্ডিকেটের মূল নেতৃত্বে আছেন। অপরদিকে বায়রার সাবেক সভাপতি আবুল বাশারসহ রিক্রুটিং এজেন্টদের বড় অংশ সিন্ডিকেটবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। সিন্ডিকেটবিরোধীরা মঙ্গলবারও রাজধানী ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলন করে তাদের দাবি উত্থাপন করেন। অপরদিকে সিন্ডিকেটের পক্ষের লোকরাও প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে তাদের লবিং-তদবির অব্যাহত রাখছেন।

ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় একটি বড় সমস্যা। একশ্রেণির মুনাফাখোর রিক্রুটিং এজেন্সি এবং দালাল বিদেশ গমনে আগ্রহীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকেন। যদিও এবার বিমান ভাড়াসহ অভিবাসন ব্যয় মালয়েশিয়ার নিয়োগকারীদের বহন করার কথা; কিন্তু এখনই অনেক রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালাল কর্মীদের কাছ থেকে অনেক বেশি অর্থ আদায় শুরু করে দিয়েছেন। এসব মুনাফাখোর রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালরা মনে করেন, বাংলাদেশ সরকার শেষ পর্যন্ত অভিবাসন ব্যয় সীমিত রাখতে সমর্থ হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here