রিভিউয়ের নামে ফুড ব্লগারদের চাঁদাবাজি

0
41

ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফুড রিভিউয়ের নামে চলছে নীরব চাঁদাবাজি।

অভিযোগ রয়েছে, ফুড ব্লগাররা চাহিদা অনুযায়ী টাকা না পেলেই বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের নামে শুরু করে নেগেটিভ কনটেন্ট প্রচার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কয়েকটি পেজ ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের ভিডিও-অডিও তৈরি করে ছোট ছোট অনুষ্ঠান বানিয়ে আপলোড করা হচ্ছে।

এসব কনটেন্টে নিুমানের রেস্টুরেন্টকে উপস্থাপন করা হয় দেশের সবচেয়ে ভালো রেস্টুরেন্ট হিসাবে। অন্যদিকে যারা মান বজায় রেখে ব্যবসা করছেন কিন্তু ফুড ব্লগারদের চাঁদা দিচ্ছেন না, তাদের উপস্থাপন এমনভাবে করা হয়-এই ভিডিও দেখলে কেউ রেস্টুরেন্টে যাবেন না।

ফুড ব্লগাররা নিয়মিত চাঁদার দাবিতে চালাচ্ছে এ কার্যক্রম। রেস্টুরেন্ট মালিকদের সঙ্গে টাকার চুক্তি হয়ে গেলে নেগেটিভ ভিডিও ডিলেট করে পজিটিভ ভিডিও উপস্থাপন করা হয়। আর এভাবেই চলতে থাকে তাদের নীরব চাঁদাবাজি। জানা গেছে, এসব ফুড ব্লগারের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো সাহস নেই কোনো রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীর। কারণ প্রতিবাদ করলেই নেগেটিভ ভিডিও ভাইরাল করে ব্যবসার লালবাতি জ্বালিয়ে দেবে বলে হুমকি দেয় প্রতিনিয়ত।

ব্যাপক হারে এ নীরব চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটলেও এর নিয়ন্ত্রণ নেই কারও হাতেই। যার যা মনে আসছে তা-ই ভিডিও বা অডিও আকারে তুলে দিচ্ছে ফেসবুক ও ইউটিউবে। গত কয়েক বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব ফুড ব্লগারদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা।

তাদের কাছে জিম্মি হয়ে আছেন এই খাতের প্রায় সব ব্যবসায়ী। ইউটিউব-ফেসবুকের জন্য ভিডিও তৈরি করা চক্রের সদস্যরা একটি ক্যামেরা ও এডিটিং প্যানেল নিয়ে ছোট্ট অফিস খুলে বিজ্ঞাপন এজেন্সির আদলে ব্যবসা খুলে বসেছে। বিনা পুঁজির ব্ল্যাকমেইলিং ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সিন্ডিকেট গড়ে তারা চাঁদাবাজি করছে। অন্যদিকে লাইক, শেয়ার ও ভিউ ব্যবসা তো আছেই। পাশাপাশি রেস্টুরেন্ট মালিকদের কাছ থেকেও নিচ্ছে নিয়মিত মোট অঙ্কের মাসিক চাঁদা।

এসব বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। জানতে চাইলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিরাপত্তা বিশ্লেষক শাহ আসিফুল আবেদ স্বরূপ যুগান্তরকে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইউটিউব বা ফেসবুক থেকে আয় করা যায় এ কথা সত্যি। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমাদের দেশের কিছু তরুণ শুধু নিজেদের স্বার্থে ইউটিউব-ফেসবুকে নানা ধরনের হয়রানিমূলক কনটেন্ট প্রচার করছে, যা খুবই উদ্বেগজনক। এ বিষয়গুলোকে নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

সমাজবিজ্ঞানী ড. এম ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘সম্প্র্রতি দেখা যাচ্ছে কিছু ফুড ব্লগার ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজ খুলে নানা ধরনের ভিডিও প্রচার করছেন। ভিডিওর ধরন দেখেই বোঝা যায় এগুলো পেইড এবং বিজ্ঞাপনের আদলে তৈরি করা। প্রতিনিয়ত ব্লগাররা তাদের অডিয়েন্সদের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

ফেসবুকে ভাইরাল ফুড ব্লগারদের মধ্যে অন্যতম ‘ফুড আপ্পি’র সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে মোবাইল ফোনের সংযোগ কেটে দেন। আরেক ব্লগার ‘জোলটান বিডি’র সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার সহকারী পরিচয়ে এক ব্যক্তি নিজেকে টেলিভিশন সাংবাদিক দাবি করে তার সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানান।

এদিকে, জোলটান বিডি, ফুড আপ্পি, বাংলাদেশি ফুড রিভিউয়ার, মেট্রোমেন, স্ট্রিট ফুড হান্টিং, পেটুক কাপলসহ বিভিন্ন নামের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন কনটেন্টের ফাঁকে অনেক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন উপস্থাপন করলেও ঠিকমতো রাজস্ব দিচ্ছে কিনা এবার তাও নজরদারিতে আনার দাবি উঠেছে। ভ্যাট নিয়ে কাজ করা আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ড. সুফি সাগর যুগান্তরকে জানান, তাদের পক্ষ থেকে কাউন্টার টেরোরিজমের সাইবার ক্রাইম বিভাগ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হবে।

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যেই মূসক গোয়েন্দা এসব লাভজনক পেজের বিভিন্ন কনটেন্ট ও ইভেন্টে রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি তদন্ত করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফুড ব্লগিং এবং রিভিউ নামে খ্যাত ‘ফুডআপ্পি’ এবং ‘জোলটান বিডি’র সদস্য সংখ্যা ৮ লাখ ও প্রায় ৫ লাখ। বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের ফুড ব্লগিং করে এসব পেজে রিভিউ দিয়ে প্রমোটিং করা বর্তমানে একটি রীতি।

এসব ব্লগারদের পজিটিভ রিভিউ অনেক রেস্টুরেন্টের ভাগ্য বদলে দেয় বলে বিশ্বাস গুটিকয়েক রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীর। তাই রেস্টুরেন্ট মালিকরা দিনের বেশিরভাগ সময় নজর দিয়ে বসে থাকেন এসব পেজের দিকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here