চাল ডাল পেঁয়াজ রসুন কিনতে ক্রেতার ভোগান্তি

0
19

এতদিন ভোজ্যতেল কিনতে ক্রেতার হিমশিম অবস্থার সৃষ্টি হলেও সেই তালিকায় চাল-ডাল, আটা-ময়দা, পেঁয়াজ ও আদা-রসুন যোগ হয়েছে। এছাড়া ডিম ও সব ধরনের মাংসের দাম বেড়েছে। দেশজুড়ে অভিযানের পরও বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট কাটেনি। বরং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে বাজারে ক্রেতার রীতিমতো নাজেহাল অবস্থা।

কনজুমার ফোরামের তথ্য-জানুয়ারির তুলনায় মার্চে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। এ প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। জানুয়ারির তুলনায় মার্চে প্রতিকেজি চালের দাম গড়ে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিকেজি মসুর ডালের দাম তিন মাসের ব্যবধানে ২০ দশমিক ৪১ শতাংশ বেড়েছে। সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সরিষার তেলের দামও বেড়েছে। তিন মাসের ব্যবধানে এ পণ্যের দাম বেড়েছে ২২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এক কেজির প্যাকেট লবণ তিন মাসে ১৬ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া প্যাকেট মসলার দামও বেড়েছে। তিন মাসের ব্যবধানে নানা ধরনের মসলার প্যাকেটের দাম ১৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ, নুডলস ও স্যুপের দাম ২ দশমিক ১৫ শতাংশ, সাবান ও ডিটারজেন্টের দাম ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি শিশুখাদ্য গুঁড়াদুধের দামও হুহু করে বেড়েছে।

রাজধানীর খুচরা বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার প্রতিকেজি মসুর ডাল ১৩০-১৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা মাসখানেক আগে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতিকেজি খোলা আটা ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা এক মাস আগে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। খোলা ময়দা ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা মাসখানেক আগে ৫৫ টাকা ছিল। এছাড়া খুচরা বাজারে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকায়। কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে দেশি রসুন ১০০ ও আমদানি করা রসুন ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে আমদানি করা আদা ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক মাস আগে এ পণ্যের দাম ছিল ১৬৫ টাকা। প্রতি হালি ফার্মের ডিম বিক্রি হয়েছে ৪২ টাকা। যা এক মাস আগে ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হয়েছে ৮২-৮৪ টাকা। যা আগে ৮০ টাকা ছিল।

এদিকে দেশজুড়ে অভিযানের পরও বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট কাটছে না। সরকার নির্ধারিত প্রতিলিটার বোতলজাত সয়াবিন ১৯৮ টাকায় বিক্রি করার কথা থাকলেও ২০০-২০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খোলা সয়াবিনের দাম ২১০ টাকা লিটার। যা ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশুখাদ্যের দামও বাড়ছে। বোরবার প্রতি কেজি ডানো গুঁড়াদুধ ৬৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা এক মাস আগে ৬৫০ টাকা ছিল। আর গত বছর একই সময় ৬২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। একইভাবে মাসের ব্যবধানে ৩০ টাকা বেড়ে মার্কস গুঁড়াদুধ ৬৪০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হয়েছে। যা গত বছর একই সময় ৫৮০ টাকা ছিল।

কনজুমার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন মালেক বলেন, যেসব পণ্য দেশে উৎপাদন হয় সেগুলোর দামও আমদানি পণ্যের সঙ্গে বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব দেখার কি কেউ নেই? ব্যবসায়ীরা কাউকেই তোয়াক্কা করছে না। বড় থেকে শুরু করে ছোট ব্যবসায়ী সবাই কারসাজি করছে। এমনকি উৎপাদকরাও পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। তাই বাজার তদারকি আরও জোরদার করতে হবে। আইনে যা আছে তা যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে। কয়েকজনকে শুধু জরিমানা করে ছেড়ে দিলে অসাধু ব্যবসায়ীদের বাগে আনা যাবে না। কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

নিত্যপণ্যের সঙ্গে নিত্যব্যবহার্য সাবান, টুথপেস্ট, বিস্কুট, চানাচুর, পাউরুটি, ডিটারজেন্ট, নারিকেল তেল, সেভিং রেজার ইত্যাদির দামও বেড়েছে। ব্যয় সামলাতে না পেরে অনেকেই নিত্যব্যবহার্য পণ্যের তালিকা কাটছাঁট করছেন। রোববার রাজধানীর একাধিক ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন মাস আগে লাইফবয় সাবান বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা। যা এখন ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিন মাসের ব্যবধানে প্রতিপিস লাক্স সাবানে দাম বেড়েছে ১৩ টাকা। আগে ৫২ টাকায় বিক্রি হলেও এখন দাম ৬৫ টাকা। এক কেজি হুইল পাউডারের দাম ছিল ৮৫ টাকা। এখন এ পণ্যের দাম ১০০ টাকা। এক কেজি রিন পাউডারের খুচরা মূল্য ছিল ১০৫ টাকা। এখন তা ১৪০ টাকা। ১০০ টাকার পেপসোডেন্ট টুথটেস্ট এখন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ছোট সাইজের অ্যানার্জি বিস্কুটের দাম ৩০ টাকা, যা আগে ২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাঝারি সাইজের প্যাকেটজাত চানাচুর বিক্রি হচ্ছে ৪৩ টাকা, যা আগে ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ওয়ানটাইম সেভিং রেজার বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা, যা আগে ১৫ টাকা ছিল। ২৫০ এমএলের প্যারাসুট বোতলজাত নারিকেল তেল ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ১৩৫ টাকা ছিল। ৪০০ এমএলের অ্যারোসল ৪৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৪০০ টাকা ছিল। ২২০ টাকার এয়ার ফ্রেশনার এখন ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, বিভিন্ন যৌক্তিক কারণে দেশে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা একটু বাড়তি মুনাফার সুযোগ খোঁজে। তারা বিভিন্ন অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। দেখা যায় যৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম যা বাড়ার কথা কারসাজি করে তার চাইতে দুইগুণ বেশি মূল্যে বিক্রি করে। এতে ক্রেতারা নাজেহাল হন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে দেশে বেশকিছু আইন আছে, সেসব আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে।

জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার যুগান্তরকে বলেন, পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে সার্বিক তদারকি চলছে। অনিয়ম পেলে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ভোক্তা আইন বাস্তবায়নে সামনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here