সাহিত্যে প্রাধান্য পাওয়া উচিত গ্রামীণ জীবন, সমাজের বঞ্চিত মানুষের সুখ-দুঃখ: রাধেশ্যাম দেবনাথ

0
53

রাধেশ্যাম দেবনাথ। জন্ম : ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দ। কর্মজীবনের শুরুতে সরকারি হাইস্কুলে শিক্ষকতা। পরবর্তী সময়ে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা হিসাবে অবসর গ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকে নিয়মিত লিখতেন। ক্রিকেটের একজন সমঝদার হিসাবে ক্রিকেট নিয়ে চারটি বই লিখেছেন। সরকারি কাজে ভ্রমণ করেছেন ইংল্যান্ড, জার্মানি, বেলজিয়াম, হল্যান্ড, শ্রীলংকা ও ভারত। ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে জীবনস্মৃতি ‘আমার সময়ের কথা’। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ পাঁচটি-অঞ্জলি, সুরভি, ঝরা পাতা কবিতা, মণিকা ও নির্ঝর।

লেখক হওয়ার জন্য শহরে/কেন্দ্রে চলে আসার প্রবণতাকে কীভাবে দেখেন?

-> এই প্রবণতা কোনো ক্রমেই সঠিক নয় এবং সমর্থনযোগ্য নয়।

বর্তমানে সাহিত্যে কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে, কোন বিষয়গুলো বেশি প্রাধান্য পাওয়া উচিত?

-> বর্তমানে রাজনৈতিক কর্মধারাকেন্দ্রিক সাহিত্য রচনার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়। সাহিত্যে প্রাধান্য পাওয়া উচিত গ্রামীণ জীবন, সমাজের বঞ্চিত মানুষের সুখ-দুঃখ।

দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতায় ভালোবাসার সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন

-> বর্তমান যুগ ভালোবাসার যুগ নয়। একের প্রতি অন্যের মানবিক চেতনা ক্রমশ অন্তরালে চলে যাচ্ছে। মানুষ অন্যের মর্মবেদনা অনুভব করতে তেমন আগ্রহী নয়।

আমাদের বর্তমান সাহিত্যে প্রকৃতি, মানুষ জীবন কতটা নিজস্ব সৌন্দর্যে বহমান, কতটা বিকৃতির শিকার?

-> বাংলাদেশে বর্তমান সাহিত্য ভান্ডারে প্রকৃতি তেমন কোনো স্থান অধিকার করছে বলে আমি মনে করি না। মানবজীবনের বিভিন্ন গুণাবলি পরিস্ফুটকরণ সাহিত্যের মৌলিক একটি কাজ। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাহিত্য বেশ অগ্রগামী ভূমিকা পালন করছে বলে ধারণা করি।

এ সময়ে ভালো লিখছেন এমন তিনজন লেখকের নাম

-> বিগত দশকে নবীন এমন কোনো সবিশেষ মেধাসম্পন্ন লেখকের সাধনা আমার কাছে পরিস্ফুট হয়নি।

প্রযুক্তির ব্যবহার সাহিত্যের জন্য কতটা ভালো, কতটা মন্দ?

-> সাহিত্য কাজ করে মনোজগতে। প্রযুক্তি এ ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো ভূমিকা রাখে বলে মনে করি না।

বর্তমানে রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক কেমন? কেমন হওয়া উচিত?

-> আমি কোনো রাজনীতিজ্ঞ নই। তাই এ বিষয়টি আমার চিন্তা-চেতনার আওতাভুক্ত নয়।

পটুয়াখালী জেলার সাহিত্যচর্চার বর্তমান অবস্থা কেমন, আরও কী কী হলে এ এলাকার সাহিত্যচর্চা আরও সক্রিয় হতে পারে?

-> পটুয়াখালীতে সাহিত্যচর্চার পরিধি খুবই সামান্য। আগের তুলনায় ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। প্রযুক্তির আবির্ভাব এ ক্ষেত্রে বিপরীতমুখী ভাবধারা পরিবেশন করছে। সাহিত্যিক সৃষ্টির পরিবেশ বর্তমানে খুবই সামান্য। জেলায় প্রকাশনা শিল্প বর্তমানে নিবু নিবু। নতুন লেখক সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় অধিক স্থান প্রদান করা প্রয়োজন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে ব্যক্তি পর্যায়ে আরও পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ সৃষ্টি করা দরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here