ঘোস্ট অব কিয়েভ’ নিয়ে নতুন দাবি

0
27

ইউক্রেনের ‘মিগ-২৯’ যুদ্ধবিমানের চালকের আসনে এক হেলমেটধারী। ইউক্রেনের নানা শহরে যুদ্ধবিমান নিয়ে উড়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। নিখুঁত লক্ষ্যভেদে আকাশ থেকে নামিয়ে আনছেন রাশিয়ান বিমানবাহিনীর বিমান। ইউক্রেনের ফাইটার পাইলট মেজর স্তেপান তারাবালকাকে ‘ঘোস্ট অব কিয়েভ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমে।

ইউক্রেনের এই বীর পাইলট নাকি এপর্যন্ত প্রায় ৪০টি শত্রু বিমান ভুপাতিত করেছে- একজন ইউক্রেনিয়ান পাইলটের জন্য এক অবিশ্বাস্য সাফল্য – যেখানে আকাশ যুদ্ধে কীনা রাশিয়ারই একছত্র আধিপত্য।

তবে এখন ইউক্রেনের এয়ার ফোর্স কমান্ডই ফেসবুকে এক সতর্কতামূলক পোস্টে জানাচ্ছে, ‘ঘোস্ট অব কিয়েভ’ আসলে এক কাল্পনিক সুপারহিরো চরিত্র, এটি তৈরি করেছে ইউক্রেনিয়ানরা।

ওই পোস্টে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কোন তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার আগে যেন সেটি তারা যাচাই করে দেখেন।

এর আগে যেসব খবর ছড়ানো হয়েছিল, তাতে দাবি করা হয় ইউক্রেনের এই দুর্ধর্ষ পাইলট হচ্ছেন ২৯ বছর বয়সী মেজর স্টেপান। কিন্তু কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, তিনি গত ১৩ই মার্চ নিহত হন এবং তাকে মরণোত্তর বীরত্ব পদক ‘হিরো অব ইউক্রেন’ দেয়া হয়েছে।

কিন্তু ইউক্রেনের বিমান বাহিনী বলছে, মেজর স্তেপান ‘ঘোস্ট অব কিয়েভ’ নন, তিনি ৪০টি বিমানও ধ্বংস করেননি।

বিমান বাহিনীর মতে, ‘ঘোস্ট অব কিয়েভ’ আসলে তাদের ৪০তম ট্যাকটিক্যাল এভিয়েশন ব্রিগেডের পাইলটদের একটি সম্মিলিত প্রতিমূর্তি, যারা কিয়েভের আকাশকে সুরক্ষিত রাখছে। এটা কোনো একক ব্যক্তির যুদ্ধের বীরত্বগাথা নয়।

ইউক্রেনের একটি মডেল এয়ারক্রাফট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের বিক্রি বাড়ানোর জন্য ‘ঘোস্ট অব কিয়েভ’কে মার্কেটিং ব্রান্ড হিসেবে ব্যবহার করে। ইউক্রেনিয়ান ইরিনা কোস্টরিংকো এই কিংবদন্তীতে অনুপ্রাণিত একটি সামরিক ব্যাজ প্রদর্শন করেন।
এমনকি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় টারাবল্কার বীরত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি ভিডিও টুইট করে।

তার হেলমেট এবং গগলস লন্ডনে নিলামে তোলা হবেও বলে টাইমস এক জানায়।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বিবিসিকে জানিয়েছিলেন, একজন পাইলট ৪০টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করতে পারেন কীনা, সেটা তারা সন্দেহ করেন।

ইউক্রেনের সামরিক ইতিহাসবিদ মিখাইল ঝিরোহভ ‘ঘোস্ট অব কিয়েভ’ এর গল্পকে মনোবল বাড়ানোর জন্য একধরণের প্রোপাগান্ডা বলে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, যুদ্ধের শুরু থেকেই ইউক্রেনের আকাশে রুশদেরই আধিপত্য। তাই একজন ইউক্রেনিয়ান বড় জোর দুটি বা তিনটি বিমান হয়তো গুলি করে ফেলে দিতে পারেন।

টুইটারে ভাইরাল হওয়া অসংখ্য ভিডিওতে দেখা গেছে, ইউক্রেনের ‘মিগ-২৯’ যুদ্ধবিমানের চালকের আসনে এক হেলমেটধারী। ইউক্রেনের নানা শহরে যুদ্ধবিমান নিয়ে উড়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। নিখুঁত লক্ষ্যভেদে আকাশ থেকে নামিয়ে আনছেন রাশিয়ান বিমানবাহিনীর বিমান। যদিও ‘ঘোস্ট অব কিয়েভ’র অস্তিত্বকে নাকচ করে দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। টুইটারে ভাইরাল ওই ভিডিওটি ভুয়া বলে দাবি করে রয়টার্স জানায়, ওই ভিডিও আসলে ২০০৮ সালে ‘ডিজিটাল কমব্যাট সিমুলেটর’ (ডিসিএস) নামে একটি ভিডিও গেমের ফুটেজ। সূত্র: বিবিসি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here