মনিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগ কমিটি নিয়ে তুলকালাম

0
37

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের ছাত্রলীগের শীর্ষ ১৯ নেতা গণপদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে নিজ উপজেলায় ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষা করে অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের পকেট কমিটি করায় শনিবার প্রেস ক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন পদবঞ্চিত নেতারা। সম্মেলন করতে এসে প্রেস ক্লাবের সামনে হামলায় ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২৯ এপ্রিল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সালাউদ্দিন কবির পিয়াস ও সাধারণ সম্পাদক তানজীব নওশাদ পল্লব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মনিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই সঙ্গে ৫ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি করা হয় মাহমুদুল হাসান রকি ও সাধারণ সম্পাদক রমেশ দেবনাথকে। ঘোষিত কমিটিতে অনভিজ্ঞ, বিতর্কিত, রাজনৈতিক ভারসাম্যহীন এবং সদ্য এসএসসি পাশ করা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিকে ‘শিশু কমিটি’ আখ্যা দিয়ে খেদাপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হাদিউজ্জামান ফয়সাল বলেন, ঘোষিত কমিটির সভাপতি মনিরামপুর বাজারের ব্যবসায়ী ও তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পর্যন্ত। উপজেলায় ছাত্রসমাজের কাছে তিনি বিবাহিত হিসাবে পরিচিত। সাধারণ সম্পাদক রমেশ দেবনাথের ছাত্রত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএম বাপ্পী হুসাইনের কোনো ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড শাখায়ও সাধারণ সদস্য পদ নেই। সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান অভি সদ্য এসএসসি পাশ এবং ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে দেখা যায়নি। এরা সবাই মনিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের অপরিচিত মুখ। দীর্ঘদিন উপজেলার রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেও আমরা পদ-পদবি না পেয়ে হতাশ। অর্থের বিনিময়ে বিতর্কিত ও অযোগ্যদের পদ দেওয়া হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মূলহোতা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। একই সঙ্গে উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের সক্রিয় সভাপতি-সম্পাদক এবং আহ্বায়করা গণপদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ নেতা হাদিউজ্জামান ফয়সাল আরও বলেন, ছাত্রলীগের কমিটিতে বিতর্কিত নেতাদের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে এসে প্রেস ক্লাবের সামনে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছি। এই ঘটনায় ১০ জন ছাত্রলীগ নেতা আহত হয়েছেন। এরমধ্যে মনিরামপুর সরকারি কলেজের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ও ভোজগাতি ইউনিয়নের আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সংবাদ সম্মেলনে তাদের নাম প্রকাশ করেননি তিনি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যশোর সরকারি এমএম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা সৌরভ ভট্টচার্য, রাব্বী ও এনামুলসহ ৮ থেকে ১০ যুবক পদবঞ্চিতদের সবাইকে ডেকে নিয়ে সার্কিট হাউজের দিকে যায়। সেখানে হাতুড়ি, লাঠি, হকিস্টিক দিয়ে তাদের বেধড়ক পেটায়। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়।

যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানজীব নওশাদ পল্লব সাংবাদিকদের জানান, মনিরামপুরে একটি সুন্দর কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে আরও কয়েকজন ত্যাগী নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কেন্দ্রে নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। পদবঞ্চিতদের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে তারা কেউ ছাত্রলীগের নেতা নয়। তারপরও এমন ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here