সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র হচ্ছে

0
29

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের রোল মডেল, তখন কিছু মানুষ অপপ্রচার চালিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ব্যস্ত।

তারাই সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে, এটা ভালো লাগেনি বলেই কি আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করতে চাওয়া হচ্ছে? আসলে দেশের অগ্রযাত্রা রুখে দিতে এবং সাধারণ মানুষের উন্নয়ন ব্যাহত করতেই এই ষড়যন্ত্র।

মানুষকে এই সরকার যেসব সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে, সেটা থেকে তারা তাদের বঞ্চিত করতে চায়। দেশের উন্নয়ন ও এগিয়ে যাওয়া যাদের ভালো লাগছে না, তারাই সরকার হটানোর আন্দোলনে জোটবদ্ধ হয়েছে।

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বুধবার রাজধানীর কৃষক লীগের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বলতে চাই-আমাদের দেশের কিছু নেতা আছে, দুঃসময়ে মানুষের পাশে কতটুকু দাঁড়িয়েছে জানি না। করোনার সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সাহায্য করেছে কি না, সেটারও কোনো লক্ষণ আমরা দেখি না। তবে তারা আন্দোলনের জন্য খুব ব্যস্ত। কেন? কারণ এ সরকারকে হটাতে হবে। কোন সরকার? আওয়ামী লীগ সরকার। বিএনপি-জামায়াত জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন মান্না ও ড. কামাল হোসেনসহ তাদের একটি গ্রুপ। সেই সঙ্গে আবার তাদের সঙ্গে যুক্ত কমিউনিস্ট পার্টি, আমাদের বাম দল, বাসদ-টাসদ আরও কারা কারা। তারা সবাই এক হয়ে আন্দোলন করে আওয়ামী লীগ সরকার হটাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার প্রশ্ন-আওয়ামী লীগের অপরাধটা কী? আমরা ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমরা যে রূপকল্প ঘোষণা দিয়েছিলাম। দেশের মানুষকে আমরা ধন্যবাদ জানাই, তারা বারবার আমাদের ভোট দিয়েছে। ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকারে এসেছি। নির্বাচনি ইশতাহারে ঘোষিত লক্ষ্য আমরা অর্জন করেছি। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালন। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করেছি। সেই সময়ে আমরা উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছি। আমার প্রশ্ন-এটা কি তাদের ভালো লাগেনি? সেজন্য কি তারা এই সরকারকে হটাতে চায়? তিনি বলেন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে, শতভাগ বিদ্যুৎ হয়েছে, ভূমিহীন ও গৃহহীনদের বাড়ি-জমি দিচ্ছি বিনামূল্যে। এটি কি আওয়ামী লীগের অপরাধ? এজন্য এই সরকার হটাতে হবে? শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনি ইশতাহার অনুযায়ী জাতীয় লক্ষ্য বাস্তবায়ন করেছে আওয়ামী লীগ। দেশের উন্নয়ন তাদের ভালো লাগেনি বলেই কি তারা আমাদের বিরুদ্ধে নেমেছে। মানুষ এখন একটু সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বাঁচতে পারছে, এটাই আমাদের অপরাধ।

এ সময় কৃষকের উন্নয়নে তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছিয়ানব্বইয়ে ক্ষমতায় এসে আমরা হাতে নিয়েছিলাম কীভাবে ফসল বাড়ানো যায়। আমরা কারও কাছে ভিক্ষা করে চলব না। বাংলাদেশকে আমরা আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসাবে গড়তে চেয়েছিলাম। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ হচ্ছে তৃণমূলের মানুষের জন্য। যার সুফল প্রত্যেক মানুষ পাচ্ছে। বর্গাচাষিরা ব্যাংকে ঋণ পায় না। কারণ তারা জামানত দিতে পারেন না। আমি চেয়েছি ব্যাংক কৃষকের কাছে যাবে, কৃষক ব্যাংকের কাছে যাবে না। আজ বর্গাচাষিরা স্বল্প সুদে ঋণ পাচ্ছেন। বাংলাদেশ যাতে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়, সেজন্য সবজি-ফসল বাড়ানোর তাগিদে গবেষণায় জোর দিই, এর সুফল আমরা পাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি মানুষ, যার জমি নেই, ঘর নেই, কিছু নেই-একটি ঘর পাওয়ার পর জীবন-জীবিকার পথ খুঁজে পাচ্ছে। নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারছে। এটা কি আওয়ামী লীগের অপরাধ? এজন্যই কি এই সরকার হটাতে হবে। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্ধারিত সময়ের আট মাস আগেই নির্মাণ করায় সরকারের ১৫০ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেকই প্রশ্ন করেন এত টাকার, এত বড় বড় প্রজেক্টের প্রয়োজনটা কী? শতভাগ বিদ্যুৎ দিতে গেলে বিদ্যুৎ তো আমাদের তৈরি করতেই হবে। আমরা যে ৯০০ কোটি টাকার মতো বাঁচাতে পারলাম, এই কথা তো কেউ বলেন না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা গ্রাম পর্যায়ে রাস্তা, ব্রিজ, সেতু নির্মাণ করে দিচ্ছি। প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষকে যেখানে কাদা পায়ে হাঁটতে হতো, এখন তা হয় না। সেই রাস্তাঘাট করে দিচ্ছি। বোধহয় এটাও তাদের কাছে অপরাধ। সাধারণ মানুষের জন্য সরকার গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিনামূল্যে বই দিচ্ছি। ২ কোটি ৩০ লাখের মতো ছেলে-মেয়ে বৃত্তি ও উপবৃত্তি পাচ্ছে। মায়ের নামে মোবাইলের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা পৌঁছে যাচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তার টাকাও মোবাইল ফোনের মাধ্যমের পৌঁছে যাচ্ছে। দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাকালীনও আমাদের দেশের দারিদ্র্যের হার হ্রাস পেয়েছে। বহুকাজ আমরা করে যাচ্ছি। আমার প্রশ্নটা হচ্ছে-আমরা যে কাজগুলো করে যাচ্ছি, এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছে। গ্রামের মানুষ উপকার পাচ্ছে। তারা যে সরকার উৎখাত করতে চায়, তাদের উদ্দেশ্যটা কী? মানুষগুলোকে এসব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে দেওয়া? এটাই তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। সেজন্যই তাদের শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাত করতে হবে। বিরোধীদের কাছে প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাধটা কী করেছি এখানে? তারা লুটপাট করে খেয়েছে, মানুষ খুন করেছে; তাদের হাতে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী খুন হয়েছে। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে জীবন্ত মানুষকে হত্যা করেছে। ২০১৩ সালের কথা সবার মনে আছে। ২০১৫ সালে কীভাবে মানুষকে হত্যা করেছে। কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি, কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি ড. এমএ জলিল ও মোতাহার হোসেন মোল্লা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মানু, হারুন অর রশিদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কৃষক লীগের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে একটি অডিও-ভিজুয়াল তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here