‘সেই সাইফুল আর আমি সাইফুল এক নই’

0
31

তরুণ বয়সে এক সময় অন্যের দোকানের কর্মচারী হিসেবে কর্ম জীবন শুরু করেন সাইফুল ইসলাম। এরপর দিনে দিনে বাড়তে থাকে বয়স। একটা সময় নিজেই মোবাইল বিক্রির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসেন। ব্যবসা শুরুর দিন থেকে প্রতিমাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমাতেন পবিত্র হজব্রত পালনে যাবেন বলে। কারণ আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্টি। অনেকটা উৎসাহ ভরে দিন গুনছিলেন সময়টা আসবে কখন? তবে সময় যতো গড়িয়েছে সাইফুল ইসলামের হজ পালনে যাওয়ার ইচ্ছা ফিকে হয়ে যেতে বসেছে!

পাবনা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আবেদন করার চার বছর অতিবাহিত হলেও এখনো পাসপোর্ট হাতে পাননি চাটমোহর পৌর শহরের নারিকেল পাড়া মহল্লার সাইফুল ইসলাম। অথচ চার বছর আগে আনন্দে আত্মহারা হয়ে সাইফুল ইসলামসহ তিন ব্যবসায়ী পাসপোর্ট করার জন্য ব্যাংকে টাকা জমা দেন এবং পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ফিঙ্গার প্রিন্টও দিয়ে আসেন। দিনক্ষণ গণনা করছিলেন কখন হাতে পাবেন বহুল কাঙ্ক্ষিত সেই পাসপোর্ট।

পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা ভুক্তভোগীকে বলেছেন, ঠিকানা আলাদা হলেও একই জেলার অপর এক ব্যক্তির সঙ্গে নিজের এবং বাবা-মায়ের নাম মিলে যাওয়ায় পাসপোর্ট পাচ্ছেন না তিনি। মূলত নাম জটিলতায় বিষয়টি ঝুলে আছে। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বার বার পাসপোর্ট অফিসে ধর্ণা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি ভুক্তভোগী এই ব্যবসায়ীর। হয়রানির শিকারের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। বাধ্য হয়ে হজব্রত পালনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হচ্ছে তাকে।

সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৮ সালে প্রতিবেশী দুইজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে পাসপোর্ট করার জন্য পাবনা সোনালী ব্যাংকে টাকা জমা দেন তিনি। পরে পাবনা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে নিজের ফিঙ্গারও দিয়ে আসেন। এর মাসখানেকের মাথায় অন্যদের মোবাইলে মেসেজ আসলেও মেসেজ আসেনি সাইফুল ইসলামের মোবাইলে। এরপর তিনি পাবনা পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করেন। প্রথমে তাকে বলা হয়, ‘তার নামে পাসপোর্ট আগেই হয়ে গেছে’! এরপর ঠিকানা আলাদা দেখে পাসপোর্ট অফিস থেকে পুনরায় তাকে আবেদন করতে বলা হয়। তাদের কথামতো সাইফুল ইসলাম পরপর দুইবার আবেদন করেন।

কাগজপত্রে দেখা গেছে, সাইফুল ইসলাম, তার বাবার নাম মোকসেদ আলী এবং মা রহিমা খাতুন। ঠিকানায় লেখা আছে, নারিকেল পাড়া, চাটমোহর, পাবনা। এদিকে অপর সাইফুল ইসলামের বাবা-মায়ের নাম একই। তবে তার বাড়ি একই জেলার সাঁথিয়া উপজেলায়। তিনি ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলামের আবেদনের কয়েকমাস আগে পাসপোর্ট করিয়েছেন।

অন্যদিকে ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম দুইবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে দুইবারই পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে বিষয়টির ব্যাপারে তদন্ত করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম এবং পূর্বের পাসপোর্ট গ্রহীতা সাইফুল ইসলাম এক ব্যক্তি নন। মিল নেই ফিঙ্গার প্রিন্টেও। অথচ অজ্ঞাত কারণ দেখিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।

সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘অনেক কষ্টে ছোটবেলা থেকে বড় হয়েছি। মানুষের দোকানে কাজ করেছি। আল্লাহ আমাকে নিজের দোকান করার তৌফিক দান করেছেন। এরপর নিয়ত করি আল্লাহর সন্তুষ্টিতে হজ পালনে সৌদি আরবে যাব। কিন্তু পাসপোর্ট না পেয়ে এখন আমি হতাশ। বার বার পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে এর সুরাহার কথা বললে তারা পুনরায় আবদেন করতে বলেন। আর কতবার আমি নিজেকে প্রমাণ করব, সেই সাইফুল (পূর্বের পাসপোর্ট গ্রহীতা) আর আমি সাইফুল এক নই!’

এ ব্যাপারে জানতে পাবনা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালকের সরকারি মোবাইল নাম্বারে বার বার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here