বাংলা সাহিত্যে রাজশাহী

0
69

রাজশাহীকে বাংলা সাহিত্যবৃক্ষের অন্যতম উৎসমুখ বলা যায়। বাংলাভাষার প্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদেরও চর্চা হয়েছে রাজশাহী অঞ্চলের বরেন্দ্রভূমিতে। মধ্যযুগের প্রখ্যাত কবি নরোত্তম দাস (১৫৩১-১৬১১), অষ্টাদশ শতকে শুকুর মাহমুদ, ঊনবিংশ-বিংশ শতকে মির্জা ইউসুফ আলী (১৮৫৮-১৯২০), কান্তকবি রজনীকান্ত সেন (১৮৬৫-১৯২৪), ঐতিহাসিক অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় (১৮৬১-১৯৩০), বিংশ-একবিংশ শতকে হাসান আজিজুল হক, জুলফিকার মতিন, আবুবকর সিদ্দিক, সনৎকুমার সাহা, স্বরোচিষ সরকার, প্রমুখ বাংলাভাষায় সাহিত্যচর্চায় কৃতিত্ব স্থাপন করেছেন। বর্তমানে আমেরিকার ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ইমিরেটাস প্রফেসর, পদার্থবিদ খন্দকার রেজাউল করিম ‘কোয়ান্টাম রাজ্যে ডালিম কুমার’, এবং ‘কাল্পনিক বিতর্ক-বিজ্ঞান সাহিত্য দর্শন’; বিজ্ঞান-বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি বইয়ের মাধ্যমে জ্ঞনপিপাসু পাঠকের মন জয় করেছেন।

রাজশাহীর সাহিত্যচর্চার ইতিহাস প্রাচীন বাংলা থেকে হলেও বর্তমান রাজশাহী মহানগরীকেন্দ্রিক সাহিত্যচর্চার শুরু হয়; উনিশ শতকে। তার পূর্বে বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বা বৃহত্তর রাজশাহীর বর্তমান নওগাঁ, নাটোরের বিভিন্ন জায়গায় বিখ্যাত সাহিত্যিক-লেখকের জন্ম হয়েছিল। ১৮২৫ সালে জেলার প্রশাসনিক অফিস নাটোর থেকে রাজশাহীতে স্থানান্তরিত হওয়ার পর পেশাগত কারণেই এখানে বেশ কিছু শিক্ষিত ও সমাজ সচেতন ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে। বৃহত্তর রাজশাহীর বিভিন্ন অঞ্চলের জমিদাররাও কুঠি স্থাপন করেন। এসব জমিদার ও সমাজ সচেতন ব্যক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরবর্তী সময়ে পত্রিকা প্রকাশের বিষয়ে মনোযোগী হন। ফলে সাহিত্যচর্চারও পরিবেশ গড়ে ওঠে।

১৮২৮ সালে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল (তৎকালে ইংলিশ স্কুল) স্থাপনের ফলে এখানে যেমন ইংরেজি শিক্ষার সম্প্রসারণ আরম্ভ হয়। তার প্রায় অর্ধ শতাব্দী পর রাজশাহী কলেজকে কেন্দ্র করে সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা বিভিন্নভাবে সমৃদ্ধ হতে থাকে। অবশ্য মুদ্রিত আকারে সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চা শুরু হয়েছিল এ কলেজ প্রতিষ্ঠার আগেই। ১৮৭০/১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে রাজশাহী থেকে জ্ঞানাংকুর পত্রিকা প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে এ পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৬১-১৯৪১) প্রথম প্রকাশিত কাহিনি কাব্য বনফুল ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। রাজশাহী থেকে প্রকাশিত শিক্ষা পরিচয়, উদ্বোধন, ঐতিহাসিক চিত্র, রাজশাহী সমাচার, নূর-উল ঈমান, উৎসব, পল্লী বান্ধব, পল্লী শক্তি, পল্লব প্রভৃতি সাহিত্যচর্চার অগ্রগতি বৃদ্ধি করে। ১৮৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশন সাহিত্যচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। ১৮৯২ খিষ্টাব্দে নভেম্বরে রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত রাজশাহী কলেজে সাহিত্য সভায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘শিক্ষার হেরফের’ নামের বিখ্যাত প্রবন্ধটি পাঠ করেছিলেন।

১৯২৭ সালে দি রাজশাহী মুসলিম ক্লাব স্থাপন ও তার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬)-এর আগমন রাজশাহীর মুসলিম তরুণ সমাজের মধ্যে সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।

১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ও বাংলা বিভক্তির ফলে বাংলাদেশে বাংলাভাষার স্বতন্ত্র সাহিত্যচর্চা আরম্ভ হয়। তার প্রভাব রাজশাহীতেও পড়ে। তদুপরি, রাষ্ট্রভাষাকে কেন্দ্র করে এখানকার শিক্ষিত তরুণ সমাজের মাঝে নব চেতনা গড়ে উঠতে শুরু করে। ১৯৫০/১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে দিশারী সাহিত্য মজলিশ নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে এবং প্রতিষ্ঠানটি হাবিবুর রহমান শেলীর সম্পাদনায় দিশারী নামের একটি পত্রিকা প্রকাশ করে। এ প্রতিষ্ঠান ও পত্রিকাটি রাজশাহীর তরুণদের মধ্যে নতুন স্বাদ এনে দিয়েছিল। ১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে সাহিত্যচর্চায় ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৮৮৫-১৯৬৯), ড. মুহম্মদ এনামুল হক (১৯০৬-১৯৮২), ড. মযহারুল ইসলাম (১৯২৮), ড. কাজী আব্দুল মান্নান (১৯৩০-১৯৯৪), ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল (১৯৩৬-১৯৮৯), ড. মুস্তাফা নূর-উল ইসলাম (১৯২৭), ড. সুনীল কুমার মুখোপাধ্যায় (১৯২৭-১৯৮৪) প্রমুখ শিক্ষকের প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক সাহিত্যচর্চা ও গবেষণার পথ প্রশস্ত হয়। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী (১৯২৮), আলী আনোয়ার, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের পরিচালক ড. মুখলেসুর রহমান, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক ড. এ. আর. মল্লিক, ড. সালাহউদ্দিন আহমদ প্রমুখের সাহিত্য সাধনা, গবেষণা ও পত্রপত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে রাজশাহীর সাহিত্য অগ্রগতি লাভ করে। ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর তত্ত্বাবধানে ড. মযহারুল ইসলাম কবি হেয়াত মামুদ সম্পর্কে গবেষণা অভিসন্দর্ভ রচনা করে প্রথম পিএইচডি লাভ করেন। ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে ড. কাজী আব্দুল মান্নানের গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘আধুনিক বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাধনা’ রাজশাহী থেকে প্রকাশিত হয়। সে সময় মুস্তাফা নূর-উল-ইসলাম ও জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর সম্পাদনায় ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘পূর্বমেঘ’ সমগ্র দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। অনেক লেখক সৃষ্টি হয়েছে এ পত্রিকার মাধ্যমে। একই সময়ে মহসীন রেজার সম্পাদনায় ‘সুনিকেত মল্লার’ ও ডক্টর মযহারুল ইসলামের ‘উত্তর অণ্বেষা’ পত্রিকা ঘিরে একদল লেখক তৈরি হয়েছে। আব্দুল হাফিজের নেতৃত্বে প্রগতিশীল লেখকরা অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন। মুস্তাফিজুর রহমান, ফরহাদ খান, রুহুল আমিন প্রামাণিক, সিকান্দার আবু জাফর, সেলিনা হোসেন, ফজলুল হক, জুলফিকার মতিন প্রমুখ সে সময়ের উজ্জ্বল নক্ষত্র। এ লেখকদের অনেকে বর্তমানে সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করছেন।

স্বাধীন বাংলাদেশে রাজশাহীর সাহিত্যচর্চায় নতুন মাত্রা পেয়ে যায়। কবি আতাউর রহমান, কবি আবুবকর সিদ্দিক, কবি আসাদুজ্জামান, কবি জুলফিকার মতিন, কবি মযহারুল ইসলাম, কবি সৈয়দ আলী আহসান, কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হকের সান্নিধ্যে অনেক তরুণ লেখক নিজেদের যোগ্য রূপে গড়ে তোলেন। ড. মজির উদ্দীনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় একদল তরুণ গবেষণায় কৃতিত্ব অর্জন করেন। এদের মধ্যে ড. মো. হারুন-অর-রশীদ, ড. অমৃতলাল বালা, ড. তসিকুল ইসলাম রাজা, ড. অনীক মাহমুদ, ড. ফরিদা সুলতানা, ড. মনিরা কায়েস এ সময়ের উল্লেখযোগ্য নাম।

১৯৭৬ সালে রাজশাহী থেকে জাতীয় মানের পত্রিকা দৈনিক বার্তা প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকায় চাকরি সূত্রে দেশের বেশ কজন উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আসেন রাজশাহীতে। নুরুল ইসলাম পাটোয়ারি, আব্দুর রাজ্জাক চৌধুরী, সৈয়দ রেদওয়ানুর রহমান, কামাল লোহানী, আজিজ মিসির, মীর নুরুল ইসলাম, মোসলেম আলী বিশ্বাস, ওয়াজেদ মাহমুদ তাদের মধ্যে অন্যতম। এসব সাহিত্যিক ও সাংবাদিকদের অবদানে রাজশাহীতে একদল তরুণ লেখক তৈরি হয়। তারা আজ অনেকে লেখক হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তাদের মধ্যে কৌশিক আহমেদ, জামিল রায়হান, অনীক মাহমুদ, মামুন হুসাইন, মনিরা কায়েস, আরিফুল হক কুমার, নাজিব ওয়াদুদ, মোহাম্মদ কামাল, সরকার মাসুদ, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, মোহাম্মদ মুসা, হাসনাত আমজাদ, তপন দাশ, মালেক মেহমুদ, মীর রবিউল ইসলাম, আশরাফুল আলম পিনটু, সিরাজুদ্দৌলাহ বাহার, ওয়ালী কিরণ, রাশেদ রাইন প্রমুখ অন্যতম। শুরুতে দৈনিক বার্তার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন ওয়াজেদ মাহমুদ। এ পত্রিকাটির কিশোর কুঁড়ির মেলা নামে বিভাগও তরুণ লেখক তৈরি করে। এ বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন মাহমুদ আনোয়ার হোসেন। পরবর্তী সময়ে এমএ কাইউম এ দায়িত্ব পালন করেন।

উল্লিখিত কৃতীমান ছাড়াও স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে রাজশাহী থেকে অনেকে সাহিত্য ও গবেষণায় ভূমিকা পালন করেছেন এবং অব্যাহত রেখেছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য-এবনে গোলাম সামাদ, আব্দুর রশীদ খান, একেএম ইয়াকুব আলী, ড. মো. মাহবুবর রহমান, ড. সাইফুদ্দিন চৌধুরী, ড. মুহম্মদ আব্দুল জলিল, মুকুল কেশরী, আবুবকর সিদ্দিক, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান (ভাষাসৈনিক ও প্রধান বিচারপতি), খোন্দকার সিরাজুল হক, অধ্যাপক ফজলুল হক, মাহবুব সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম, আশফাকুল আশেকীন, মুহাম্মদ লুৎফুল হক, মলয় ভৌমিক, ফরহাদ খান, মাহতাব উদ্দিন, খোন্দকার আমিনুল হক, রুহুল আমিন প্রামাণিক, নূরউল ইসলাম, এসএমএ কাদের, অধ্যাপক গোলাম কবির, প্রশান্ত কুমার সাহা, সরদার আবদুর রহমান, কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ জুলফিকার, মো. খোসবর আলী, আলাউদ্দিন আহমেদ, ড. সুজিত সরকার, মাহবুবুর রহমান বাদশাহ, মোস্তাক রহমান, মঞ্জুর রহমান বাবু, জামাল দ্বীন সুমন, পূরবী যাফর, সুখেন মুখোপাধ্যায়, রুবিনা আনিস, ওয়ালী উল ইসলাম, সৈয়দ সোহেল, সাবরিনা ইয়াসমিন, ফৌজিয়া ইয়াসমিন, সোহেল মাহবুব, মিথুশিলাক মুরমু, জাকির তালুকদার, আমিনুল ইসলাম, মনজু রহমান, খোকন তালুকদার, মনোরঞ্জন নন্দী, জিএম হারূন, সরদার সাইফুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান খোকন, সালিম সাবরিন, আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ, আলমগীর মালেক, শফিকুল আলম শফিক, দেওয়ান মো. শামসুজ্জামান, কামরুল বাহার আরিফ, মনিস রফিক, শিবলী নোমান, অনুপম হাসান, হাসান রাজা, শামীম হোসেন, মঈন শেখ, মাসউদ আহমাদ, সাবরিনা আনাম, মাহফুজুর রহমান আখন্দ, বর্ষা জহীন, তৌহিদ ইমাম, মুহসীন মোসাদ্দেক, হিম ঋতব্রত প্রমুখ।

প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রাজশাহীতে সাহিত্যচর্চায় যেসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘকাল ধরে অবদান রেখেছে তাদের মধ্যে রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশন (১৮৭২), রাজশাহী সাহিত্য মজলিশ, উত্তরা সাহিত্য মজলিশ, কতিপয় সাহিত্য গোষ্ঠী, কবিতা সারথি, নব প্রবাহ সাহিত্য গোষ্ঠী, স্পন্দন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংসদ, বাংলা সাহিত্যিকী, প্রত্যয় সংস্কৃতি পরিষদ, অনির্বাণ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদ, খামখেয়ালি সাহিত্য গোষ্ঠী, রবিবাসরীয় সাহিত্য সংসদ, হিমাচল সাহিত্য-সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, উদ্বেল সাহিত্য গোষ্ঠী, উদ্ভাস সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, আব্দুল হাই সাহিত্য-সংস্কৃত সংসদ, বরেন্দ্র একাডেমি, ড. হিলালী স্মৃতি সংসদ, ধ্রুব সাহিত্য গোষ্ঠী, রাজশাহী কলেজের বাংলা সাহিত্য মজলিশ, রাজশাহী সাংস্কৃতিক সমিতি, রাজশাহী সাংস্কৃতিক পরিষদ, রাজশাহী কলেজ সাহিত্য মজলিশ, উত্তর বাঙলা সাহিত্য সংসদ, সুনিকেতন মল্লার সাহিত্য গোষ্ঠী, সূর্য সারথী, রাজশাহী লেখক পরিষদ, মুক্ত সাহিত্য সমাবেশ, কবিকুঞ্জ, ধ্রুব সাহিত্য গোষ্ঠী, উচ্চারণ, রাজশাহী কলেজ থিয়েটার, লোক সংস্কৃতি কেন্দ্র, তরুণ লেখক পরিষদ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। দেশ স্বাধীনের পর প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক সাহিত্যচর্চারও প্রয়াস ঘটে। উত্তরা সাহিত্য মজলিশ (১৯৭৩) থেকে কবি বন্দে আলী মিয়ার সম্পাদনায় প্রতীতি নামে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে। প্রবীণ সাংবাদিক ও সাহিত্যিক মুহম্মদ আব্দুস সামাদ, অধ্যাপক এসএম আব্দুল লতিফ, ড. রশীদুল আলম, মরহুম আব্দুল গনি, কবি খন্দকার জাহানারা বেগম, মুস্তাফিজুর রহমান, শামসুল হক কোরায়শী, আনোয়ারুল আবেদীন প্রমুখ প্রতীতিতে নিয়মিত লিখতেন।

এক সময় রবিবাসরীয় সাহিত্য সংসদ নিয়মিত সাহিত্য আসরের আয়োজন করত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনন, শব্দায়ন, আড্ডা প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত আবৃত্তিচর্চা ও সাহিত্য সভার আয়োজন করা হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরাম, সন্দীপন সাহিত্য পরিষদ (১৯৯৬) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত আরও দুটি প্রতিষ্ঠানে। ফজলুল হক (মৃত্যু ১৩ আগস্ট ২০০৯) ও শামসুল আলম সরদারের পরিচালনায় ১ অক্টোবর ১৯৯৩ তারিখে জন্মলাভ করে রাজশাহী সাহিত্য পরিষদ সাহিত্যচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়।

নিয়মিত সাহিত্য বৈঠক ও প্রকাশনার জন্য রাজশাহী লেখিকা সংঘের অবদানও প্রশংসনীয়। এ প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে সাহিত্যচর্চা করে খ্যাতি অর্জন করেছেন জাহান আরা বেগম, আজিজা বেগম, খোদেজা বেগম, হামিদা হক, খন্দকার জাহানারা বেগম, রেবেকা আসাদ, হেলেনা বেগম, রোকেয়া রহমান, মাফরুহা আকতার উর্মি, মিতা জামান, শামসুজজাহান সুলতানা বানু, সৈয়দা মাস্তুরা মোনালিসা, লুৎফুন্নেসা আজিজ, রোজেটি নাজনীন, সৈয়দা আয়েশা বেগম, ফরিদা খানম, রোজিনা ইসলাম, শাকিয়া হায়দার, সৈয়দা সুরাইয়া হক প্রমুখ।

সরাসরি না হলেও সাহিত্যচর্চায় কিছু প্রতিষ্ঠান ও কিছু আয়োজককে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যায়। যেমন-রাজশাহী থিয়েটার অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের জন্ম ও মৃত্যু দিবস উপলক্ষে নাটক, আলোচনা এবং গবেষণায় অবদান রাখার জন্য পুরস্কার দিয়ে থাকে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১৯৯০-১৯৯১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও তৎকালীন শিক্ষকরা ১৮ মার্চ ২০২২ তারিখে বন্ধু মিলনমেলা শিরোনামের অনুষ্ঠানে সাহিত্য ও গবেষণায় অবদান রাখার জন্য তাদেরই সহপাঠী আনারুল হক আনা, মাহমুদুল হক আরিফ, ছমির আমিনুল ও বাবুলকে সংবর্ধিত করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here