প্রতিবন্ধী শিশুটি হুইলচেয়ার পেয়ে মহাখুশি, পাচ্ছে ভাতাও

0
36

সাড়ে ৬ বছরের শিশু ইসমাইল। তার মা গৃহিণী ও বাবা মেঘনা নদীর জেলে। তিন ভাইবোনের মধ্যে সে মেজ। তার দুই পা নেই। দুই হাত থাকলেও আঙুলগুলো খুবই ছোট। কথা বলতে খুব কষ্ট হয়। সড়কের ওপর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয়। তার খুব কষ্ট হয়।

সম্প্রতি সংবাদ সংগ্রহের কাজে মেঘনাপাড়ে বেড়িবাঁধের ওপর গেলে নজরে পড়ে শিশু ইসমাইলকে। তখন আমাকে দেখে বলে— আমাকে একটা হুইলচেয়ার দেবেন, সেই গাড়ি দিয়ে স্কুলে যামু।

এ নিয়ে শনিবার ‘আমাকে একটা হুইলচেয়ার দিবেন’ ও ‘আঁরে একখান হুইলচেয়ার দিবেন-গাড়িতে করি স্কুলে যাইয়াম’ এ শিরোনামে এবং গত ১১ মার্চ যুগান্তর অনলাইনে স্বচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়।

প্রতিবন্ধী শিশু ইসমাইলকে নিয়ে স্বচিত্র-প্রতিবেদন নজরে আসে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নুরুল ইসলাম ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের। পরে যুগান্তরের প্রতিনিধির মাধ্যমে শনিবার ১৫তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউপির মেঘনাপাড়ে বেড়িবাঁধের প্রতিবন্ধী ইসমাইলের খোঁজখবর নিয়ে তাকে হুইলচেয়ার প্রদান করা হয়।

এ ছাড়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধী শিশু ইসমাইলের জেলে পরিবারকে স্বাবলম্বী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নুরুল ইসলাম ফাউন্ডেশন।

শিশুর মা মাহমুদা বেগম বলেন, জন্মের পর থেকে (সাড়ে ৬ বছর) ইসমাইল শারীরিক প্রতিবন্ধী (তার দুই পা ছোট ও দুই হাতের আঙুল ছোট এবং আঁকাবাঁকা)। হামাগুড়ি দিয়েই স্কুলে যাওয়াসহ সব কাজ করতে হয় তার। বেড়িবাঁধের পাশে ঝরাজীর্ণ বসতঘরে মেঘনা নদীতে মাছ ধরেই সংসার চালাতে হচ্ছে তাদের। শিশু ইসমাইল স্থানীয় বেড়িবাঁধের পাশে আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন কর্মসূচি (ডরপ) নামে একটি বেসরকারি স্কুলের প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে। তাদের অন্য তিন সন্তানও স্থানীয় বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে। আমি মানুষের বাড়িতে ও তার বাবা মেঘনা নদীতে মাছ ধরার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। এই কষ্টের পয়সা দিয়ে ইসমাইলসহ চার সন্তানকে নিয়ে বেড়িবাঁধের পাশে ঝুপড়ি ঘরে তাদের বসবাস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here