যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে সেই ‘সুবিধা’ নিতে চান ইমরান খান

0
64

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোট হবে আজ। এ নিয়ে দেশটিতে প্রবল উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শুক্রবার এক বক্তৃতায় ইমরান খান তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টাকে ‘রিজিম চেঞ্জ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য পাকিস্তানের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার কথা অস্বীকার করে আসছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ইমরান। এই ভাষণে চিঠির বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি ‘মুখ ফসকে’ যুক্তরাষ্ট্রের নাম বলে দেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তা তিনি শুধরে নেন। পরে বলেন, একটি বিদেশি রাষ্ট্র হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে, যা পাকিস্তানবিরোধী।

ভাষণে ইমরান আরও বলেন, তিনি কোনোভাবেই পদত্যাগ করবেন না। চলমান ষড়যন্ত্রকে কখনও সফল হতে দেবেন না।

এছাড়া ইসলামাবাদের মার্কিন কূটনীতিককে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানানোর আগে চিঠির বিষয়টি পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব ও মন্ত্রিপরিষদকে অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমকে অভিযুক্ত করে ইমরান খান জনগণকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে নিয়ে যেতে চাইছেন৷
ভারতে পাকিস্তানের হাই কমিশনার আব্দুল বাসিত ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, পররাষ্ট্রনীতিকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসা বিপজ্জনক হতে পারে৷ এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান পাকিস্তানের জন্য ক্ষতিকর৷

বিশ্লেষকরা বলছেন, অনাস্থা ভোটের ফল যাই হোক না কেন পাকিস্তান আগাম নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে এবং ইমরান খান মনে করছেন মার্কিনবিরোধী বক্তব্য দিলে আগাম নির্বাচন হলেও সেখানে জিতে তিনি আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোশাররফ জায়দি বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবেই পরবর্তী নির্বাচনের জন্য পশ্চিমাবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়া হামলা শুরু করে। এ হামলার মধ্যেই মস্কো সফর করেছিলেন ইমরান। এ প্রসঙ্গে ভাষণে ইমরান বলেন, ‘…তারা কেন হুমকি দিচ্ছে, তার কোনো কারণ দেখাচ্ছে না। তারা শুধু বলছে, ইমরান খান রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। তারা এই একটা বিষয়কে ইস্যু করে হুমকি দিচ্ছে। অথচ এই সিদ্ধান্ত আমি একা নিইনি। এ বিষয়ে তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছিল।’

রাশিয়া যেদিন ইউক্রেনে হামলা চালায় সেদিন মস্কো সফর করেন ইমরান খান৷ এরপর থেকে তিনি তার সমর্থকদের সামনে নিজেকে ‘পশ্চিম-বিরোধী’ নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন।

ওয়াশিংটনের উড্রো উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, খান সম্ভবত সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম-বিরোধী কঠোর সমালোচনা করে বেশ কিছু দেশকে অসন্তুষ্ট করেছেন৷ আমার মনে হয় এমন বার্তা পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীকেও অসন্তুষ্ট করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেসামরিক নেতৃত্বের চেয়ে জেনারেলদের বেশি ইতিবাচক মনে হয়েছে।

কুগেলম্যান মনে করছেন, ইমরান খান বর্তমানে যে সংকটে পড়েছেন তা থেকে উতরে যেতে সামরিক বাহিনীর সহায়তা আশা করতে পারেন না। কারণ সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক ঠিক হবার নয়৷ সামরিক বাহিনীর অন্যরাও ইমরানকে নিয়ে খুশি নয় বলেও জানান কুগেলম্যান।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে মোট আসন ৩৪২টি। ইমরানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ১৭২টি ভোটের প্রয়োজন। বিরোধী জোটের হাতে রয়েছে ১৯৯টি ভোট। অন্যদিকে ইমরানের পক্ষে আছে ১৪২টি ভোট।

স্বাধীনতার পর পাকিস্তানে কোনো সরকার তার পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরানের ভাগ্যেও তেমনটা ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here